545527bc1becd

ভাল আছি আমি


ভাল আছি আমি
ভাল আছি মৃত্তিকার এই অব্ধিদ্বীপাতে
ছোট ছোট কিছু অবহেলা
মেনে নিচ্ছি তোমার কাছ থেকে মৌনতার মাঝে।

ভাল আছি আমি
ঊষা লগনের শীতল পূর্ব নিলয়ের মত
পশ্চিম আকাশের রক্তিম উত্থিত তিমিরের মত
ক্রুদ্ধ শ্রাবণের রাতের সংগ্রামপ্রি বৃক্ষের মত।

ভাল আছি আমি
প্রক্রান্ত অহর্নিশির কথা মনে করে আপন মনে শিহরিত হয়ে
তিথির রাতে তুমি হাঁটবে আমার সাথে,
যদিও এখন এই সব কিছুই বিস্মৃতি।

ভাল আছি আমি
সেই ছোট বেলার দিন গুলো কে মনে করে,
ফড়িঙয়ের লেজে সুতা বেঁধে উড়ানের চেষ্টা
ঝড়ের দিনে আম কুড়ানের অপ চেষ্টা ।

ভাল আছি আমি
শৈশবের বাড়ীটির কথা মনে করে
যার আঙ্গিনায় খেলেছি কত শত সংসার সংসার খেলা।

ভাল আছি আমি
ঘুম ঘুম চোখএ স্বপন দেখার প্রত্যাশায়
নতুন প্রজন্মকে স্পর্শ করবার আকাঙ্ক্ষায়
না পাওয়া গুলো পাবার প্রতীক্ষায় ।

ভাল আছি আমি
মায়ের হাতের রেশমি চুঁড়ির রিনিঝিনি শব্দ মনে করে
কত শত মান-অভিমান ছিল মায়াময়ী মায়ের সাথে, তাই ভেবে !!

ভাল আছি আমি
সব কিছু মেনে নিয়ে
সব কিছু গ্রহণ করার ধী নিয়ে,

ভাল আছি আমি
আবার ও বলবো
ভাল আছি আমি ।

লেখাঃ সাইম আরাফাত প্রকৃতি


ছোট বেলার ফুটবল
খেলার কিছু নিয়ম :

  লেখাঃ সাইম আরাফাত প্রকৃতি

১/ খালি পায়ে ফুটবল খেলা
.
২/ যার বল সেই
থাকবে অধিনায়ক
.
৩/ যে সবচেয়ে মোটা বা
বয়সে ছোট সেই
থাকবে গোল কিপার
.
৪/ কোন রেফারি নাই,
কোন অফসাইড নাই,
লাল/হলুদ কার্ড নাই,
নাই কোন কর্নার, এক
মাত্র হাতে লাগলেই
ফাউল/ হ্যান্ডবল ধরা হয়
.
৫/ খেলায় কোন
পেনাল্টি নাই
.
৬/ খেলায় কোন ল্যাং
মারা যাবেনা, যদি করা হয়
তবে ঐ খেলোয়াড় বাদ
.
৭/ ফ্রী কিক হলে ঠিক
এক হাত সামনে দুই
থেকে তিন জন দাঁড়াবে গার্ড
.
৮/স্যান্ডেল বা ইট
দিয়ে বানানো হতো গোল বার
.
৯/ গোল হলেই চিৎকার
করে প্রতিপক্ষ দল থেকে বলা হয়,
হয় নাই হয় নাই,
.
১০/ খেলার নির্দিষ্ট
কোন সময় নাই,
তবে মাগরিবের আজান
হলেই খেলা খতম।


 


ছোট বেলার খেলাগুলো ( একটি নস্টালজিক পোস্ট)


Saim Arafat Prokity's photo.
লিখেছেনঃ সাইম আরাফাত প্রকৃতি (তারিখঃ শুক্রবার, ১২/০৮/২০১৫ - ১৭:৪০) মানুষ তার জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সময় সম্ববত ছোটবেলাতেই পার করে। অন্যদের কার কি ধারণা আমি জানি না। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, শৈশব-কৈশোরই এখন পর্যন্ত আমার পার করা শ্রেষ্ঠ সময়। আজ ছোটবেলার খেলাগুলো নিয়ে লিখলাম। আপনারাও আপনাদের ছোটবেলার খেলাগুলো এখানে লিখতে পারেন। মূল পোষ্টে সংযুক্ত করে দেয়া হবে।

১: ছোয়া-ছুই : এই খেলায় একজনকে চোর নির্বাচন করা হত। সে বাকি সবাইকে দৌড়ে ছোঁয়ার চেষ্টা করত। যাকে ছুঁতে পারত, সেই চোর হত।

২: কানা-মাছি : এটি অনেক জনপ্রিয় একটি খেলা ছিল। এই খেলায় একজনকে নির্বাচন করে, তার চোখে কাপড় বেধে দেয়া হত। তারপর সে দেখতে পাচ্ছে কিনা, নিশ্চিত হওয়ার জন্য চোখের সামনে আঙ্গুল ধরা হত। এরপর 'কানা-মাছি ভোঁ ভোঁ, যারে পাবি তারে ছো" এই ছড়া বলতে বলতে সবাই তাকে গুতো দিত। সে যাকে ধরতে পারত, তার চোখেই আবার কাপড় পরানো হত।

৩: লুকোচুরি/ পলাপলি : এই খেলাটাও অনেক জনপ্রিয় একটা খেলা ছিল। লুকোচুরি খেলেননি ছোটবেলায় এমন হয়ত খুব কমই আছেন। এখানেও একজনকে চোর নির্বাচন করা হত। সে একদিকে মুখ করে বা চোখ বন্ধ করে ১-৫০ কিংবা ১০০ পর্যন্ত গুণত। ততক্ষণে সবাই লুকিয়ে পড়ত। গণনা শেষ হলে সে সবাইকে খুঁজে বেড়াত। যাকে প্রথম দেখত তার নাম ধরে ১ টিপ, ২ টিপ এভাবে বলত। যদি কারও নামে ভুল করত কিংবা নাম বলার আগেই কেউ এসে তাকে ছুঁয়ে "টিলো" বলত , সেই আবার চোর হত। অন্যথায় যাকে '১ টিপ' বলা হয়েছে সেই চোর হত।

৪: বরফ-পানি : এই খেলাটি অনেকটা "ছোয়া-ছুই" খেলার মতই। তবে চোর এখানে যাকে ধরত সেই স্থির হয়ে থাকত, যতক্ষণ না অন্য কেউ এসে তাকে ছুয়ে মুক্ত করত। একাধিকবার যদি কাউকে বরফ করা হত, সেই চোর হত। 'কুমির ভাই তোর জলে নেমেছি' এটি বলে কুমিরকে ক্ষেপানো হত।

৫: কুমির-কুমির : এখানে একজনকে কুমির বানানো হত। একটা নির্দিষ্ট জায়গা থাকত কুমিরের। সেখানে সবাই দৌড়ে যেত। এর মধ্যে 'কুমির' কাউকে ধরতে পারলে সেও 'কুমির' হয়ে যেত।

৬: সাত পাতা : এই খেলাটিও অনেক মজার একটি খেলা ছিল। এখানে যে চোর থাকত সে সবাইকে ৭টি পাতার নাম বলত সংগ্রহ করে আনার জন্য। দম নির্দিষ্ট করে দেয়া থাকত। পাতা সংগ্রহ করে আনা হলে মাটিতে গর্ত করে একটি নির্দিষ্ট জায়গা সেই পাতাগুলো লুকানো হত। চোর যার ৭টি পাতা খুঁজে পেত, সেই চোর হত।

৭ : ইচিং-বিচিং : এটা সাধারণত মেয়েরাই বেশি খেলত। একটি দাগের দু'পাশে দু'পা দিয়ে লাফাতে হত। আর বলতে হত 'ইচিং-বিচিং-চিচিং চা, প্রজাপতি উড়ে যা'। দাগে পা পড়লে আউট হিসেবে গণ্য হত।

৮: ওপেনটি বায়োস্কোপ : এই খেলায় দুজন দুহাত উপরে ধরে গেইটের মত বানাত। বাকি সবাই একজন আরেকজনের কাঁধে হাত রেখে সেই গেইটের ভিতরে ঘুরে ঘুরে ঢুকত। যে দুজন হাত উচু করে রাখত তারা একটি ছড়া বলত।
"ওপেনটি বায়োস্কোপ,নাইন-টেন টেস্কোপ
সুলতানা-বিবিআনা, সাহেব বাবুর বৈঠক খানা
বৈঠক খানায় গিয়ে, পান-সুপারি খেয়ে
পানের আগা মরিচ বাটা,স্প্রিংয়ে ছবি আকা
যার নাম রেণুমালা, তাকে দিব মুক্তার মালা"
মুক্তার মালা বলার সময় যে সেই দুজনের হাতের নিচে পড়ত, তাকেই মুক্তার মালা দেয়া হত।

৯: পলানটুক / ফুলটোকা: এই খেলাটি দুদলে ভাগ হয়ে খেলতে হত। একজন করে দলনেতা থাকত। তারা যেকোন কিছুর একটা নাম নিত। যেমন, ফুল, ফল ইত্যাদি। দুদল এর সদস্যরা নির্দিষ্ট দূরত্বে মুখোমুখি বসত। সদস্যদের প্রত্যেকের আলাদা নাম ছিল। যেমন, জবা, চামেলি, বকুল অথবা আম, জাম, লিচু ইত্যাদি। এক পক্ষের দলনেতা অপর দলের সদস্যকে পিছন হতে হাত দিয়ে চোখ চেপে ধরত এবং তার নিজ দলের কোন এক সদস্যকে ডাকত( আয়রে আমার জবা ) । সে এসে কপালে
টোকা দিয়ে গিয়ে তার জায়গায় গিয়ে বসত। তখন যার চোখ ধরা হয়েছে তাকে বলতে হত কে তাকে টোকা দিয়ে গিয়েছে।

১০: এ লন্ডি লন্ডন : এটাও কিছুটা লুকোচুরির মত। তবে এখানে চোর দেয়ালের দিকে মুখ করে গুণত, আর অন্যরা একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে তার দিকে আসত। গুণা শেষে পিছন ফিরে তাকানোর সময় কাইকে যদি নড়তে দেখত, সেই চোর হত। আর যে সবার আগে আসতে পারত সে হত প্রথম। এটার ছড়া ছিল - এ লন্ডি লন্ডন, ঘড়ি বাজে টনটন, ১....২....৩ )

১১: নাটবল্টু: এখানে একজনকে চোর বানানো হত। সে কোমর বাকা করে, মাথা নিচের দিকে রাখত অনেকটা নামাযে রুকু দেয়ার মত। অন্যরা তারা পিঠের উপর দুহাত রেখে লাফ দিয়ে অন্য পাশে যেত। কারও পা যদি চোরের গায়ে লাগত, তখন সে চোর হত।

১২: ঝিক/চারা : এটি সাধারণত সমান কোন সিমেন্ট বা ছোট ইটের টুকরা দিয়ে খেলা হত। কেউ একজন ঝিক ছুড়ে মারত, অপরজনকে সেটিতে লাগাতে হত। অনেক জায়গায় এর সাথে আবার সিগারেটে কিংবা ম্যাচ এর প্যাকেট দেয়া হত। গ্রামে অনেককে দেখতাম আমের বারা (আঁটি) দিয়েও খেলত।

১৩: কক ফাইট (মোরগ লড়াই) : এই খেলায় সবাই এক পা পিছন দিতে হাত ধরে রাখত এবং অপরজনকে গুতো দিয়ে ফেলার চেষ্টা করত। অনেকে আবার কনুই দিয়ে মারত। যে পড়ে যেত সে আউট হিসেবে গণ্য হত।

১৪: চড়ুই-পাখি : এই খেলা সম্পর্কে আশা করি কিছু বলা লাগবে না !
'চড়ুই পাখি বারটা
ডিম পেড়েছে তেরটা
একটা ডিম নষ্ট
চড়ুই পাখির কষ্ট'

১৫: রস-কস : এটি সাধারণত ঘরে কিংবা স্কুলে ক্লাসের ফাকে খেলতাম। এটিও অনেকটা চড়ুই-পাখির মত। আঙ্গুল গুণে গুণে 'রস, কস, সিঙ্গাড়া, বুলবুলি, মস্তক' বলা হত। সবার শেষে যার আঙ্গুল বাকি থাকত তাকে দুর্ভোগ পোহাতে হত। অর্থাৎ, সবাই একে একে তার হাতের তালুতে হাত দিয়ে আঘাত করত। যে মিস করত সে বাদ হয়ে যেত।

১৬ : কুতকুত : এই খেলা মূলত মেয়েদের খেলা হলেও বাড়িতে গেলে কাজিনদের সাথে খেলতাম। কুতকুত অনেক ধরনের ছিলো। ৪,৫,৯ ঘরের গুলো মনে আছে।

১৭: বোম বাস্টিং : এই খেলা টেনিস বল দিয়ে খেলা হত। যে যাকে পারত পিঠের মধ্যে টেনিস বল দিয়ে মারত। একে 'পিঠ ফাডান্তিস' ও বলত।

১৮: সাত চারা : ইটের উপর ৭টি চারা/ঝিক রেখে দূর হতে বল দিয়ে মারা হত। বল দিয়ে সেগুলো ফেললে অপরপক্ষ সেগুলো আবার তোলার চেষ্টা করত। এরই মধ্যে বল দিয়ে তাদের কারও গায়ে লাগাতে পারলে তারা জয়ী হত।

১৯: ৫ গুটি/ ধাপ্পা : এটাও মেয়েদের খেলা। তবে আমিও খেলেছি। এই খেলার অনেক গুলো ধাপ ছিল, ভুলে গেছি।

২০: ডাংগুটি : এই খেলাটা সম্পর্কেও নিশ্চয়ই অনেকের ধারণা আছে। দুজন কিংবা একাধিক হলে দুদলে বিভক্ত হয়ে এটি খেলা হত। খেলার সরঞ্জাম ছিল এক হাত সমমানের শক্ত একটি 'ডাং' এবং ক্রিকেটের "উইকেট"এর বেল সমমাপের 'গুটি'। মাটিতে ছোট একটি গর্ত করে সেখানে গুটি রাখা হত। তারপর তার নীচে ডাং ঢুকিয়ে জোরে দূরে মারা হত। কেউ যদি গুটি শূণ্যে ধরে ফেলতে পারত, তবে আউট ধরা হত। আর ধরতে না পারলে সেখান থেকে কুড়িয়ে ডাং এর কাছে ফেলতে পারলে সে মারার চান্স পেত। আর কাছে যদি না পড়ত, তখন ডাং দিয়ে গুটিটিকে তিন বার বাড়ি মেরে দূরে পাঠানো হত। এখানে মারার সময় কেউ যদি গুটিকে একাধিক শূণ্যের মধ্যে ডাং দিয়ে বাড়ি মারতে পারত, সেটার জন্য এক্সট্রা পয়েন্ট পেত। এভাবে যেখানে গুটিটি গিয়ে পড়েছে সেখান থেকে ডাং দিয়ে গুণে গুণে ঘর পর্যন্ত আনা হত। যার পয়েন্ট বেশি হত, সেই প্রথম হত।

২১: ঘুড়ি: ঘুড়ি উড়াতে আমি পটু ছিলাম না। ভাল ঘুড়ি উড়াতে পারতাম না। তবে আমার মা খুব ভাল ঘুড়ি বানাতে পারত। আমি আমার মায়ের কাছ থেকেই ঘুড়ি বানানো শিখেছিলাম।

২২: চোর-পুলিশ : কাগজে-কলমে এই খেলাটিও অনেক জনপ্রিয় একটি খেলা ছিল। চোর, পুলিশ, বাবু, ডাকাত। চোরের পয়েন্ট ৪০, ডাকাতের ৬০, পুলিশের ৮০ আর বাবুর ছিল ১০০। কি মনে পড়েছে? কাগজে কলমে আরেকটি খেলা ছিল। গ্রামে বেড়াতে গেলে এই খেলাটি খেলতাম। "যদু, মধু, রাম, সাম"।

২৩: যুদ্ধ যুদ্ধ : ছোটবেলার একটা সময় বান্দরবানে কাটিয়েছি। তখন 'টিপু সুলতান' নামে একটা এপিসোড হত। সেটার দেখাদেখি আমরাও যুদ্ধ যুদ্ধ খেলতাম। বড় ভাইয়েরা পাহাড় থেকে বাঁশ কেটে আনত, তারপর সেগুলো দিয়ে তলোয়ার বানাত। আমাদেরকেও বানিয়ে দিত। কাঁঠাল পাতা দিয়ে বানাতাম মুকুট। কাশফুল মুকুটের সামনে জুড়ে দিতাম। তারপর শুরু হত যুদ্ধ। আহ ! কি সেই সময়গুলো।

এছাড়া আর এক রকম যুদ্ধ যুদ্ধ খেলতাম। সেটা হল গোলাগুলি। এক দলের উপর আরেক দল ছোট ছোট ইটের টুকরা (বোমা) ছুড়ে মারতাম, বড় ভাইদের থাকত স্টেনগান। কি সুন্দর করে বানাত বাশ দিয়ে। আমরা অবশ্য সেগুলো পেতাম না। কাগজের পিস্তলই ছিল পিচ্চিদের ভরসা !

২৪: মি: এই খেলাটি সবাই হাত ধরে গোল হয়ে খেলত। 'মি' বলে সবাই হাত ছেড়ে লাফ দিয়ে পিছনে সরে যেত। তারপর একজন আরেকজনের পায়ে পা লাগাতে পারলে সে আউট হয়ে যেত।

২৫: টুনটুনি পাখি : এই খেলায় একজন হাটু গেড়ে বসে এবং দুহাত প্রসারিত করে রাখে। অন্যরা একে একে হাতের উপর লাফ দিয়ে পার হয় এবং নিচের ছড়াটি বলে। চোরের হাতে কারও পা লেগে গেলে সে চোর হত।
'টুনটুনি পাখি
নাচোতো দেখি
নারে বাবা নাচবো না
পড়ে গেলে বাচবো না
বড় আপুর বিয়ে
লাক্স/কসকো সাবান দিয়ে'

২৬: নাম মনে নেই : এটিও উপরের খেলাটির মতই। তবে এখানে চোর দুজনও হতে পারে। তারা মুখোমুখি বসে পা বিছিয়ে। এখানে প্রথমে এক পা , তারপরে আরেক পা, তারপর এক হাত, এরপর আরেক হাত এভাবে উচ্চতা বাড়াতে থাকে। অন্যরা ধাপে ধাপে এসবের উপর লাফ দিয়ে পার হত। যার পা চোরের গায়ে লাগত সেই চোর হত।

২৭: কিংকং : এই খেলাটি কিছুটা বোম বাস্টিং খেলার মতই। তবে এখানে একজন চোর থাকে যে বল ছুড়তে পারে। সে ছাড়া বল হাত দিয়ে আর কেউ ধরতে পারে না। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বল ধরে দূরে সরিয়ে দিতে পারবে। তবে কেউ যদি 'সারেন্ডার' বলত, তাকে মারা হত না। এভাবে শেষ পর্যন্ত যে টিকে থাকত, সেই রাজা হত।

২৮: ক্রিকেট (খাতায়) : এই খেলাটি সাধারণত ক্লাসের ফাকে খাতায় খেলা হত। দুজন দুটো টিম সিলেক্ট করে ৫ কিংবা ততোধিক প্লেয়ার নিত। তারপর খাতায় গোল বৃত্ত একে সেগুলো কে চার, ছয়, দুই. তিন, সিঙ্গেল, বোল্ড, ক্যাচ, স্টাম্পিং এমন করে আলাদা ঘরে লিখা হত। তারপর চোখ বন্ধ করে বৃত্তের মাঝখানে একজন কলম ধরত আর অপরজন খাতা ঘুরাত। এরপর যে কলম ধরত সে অনুমান করে একটি ঘরের উপর কলম রাখত। এভাবে রান হলে রান, আউট হলে আউট হিসেব করা হত।

২৯: খাতার আরও কিছু খেলা : শব্দ বানানো : এই খেলায় নির্দিষ্ট ঘরে একজন একজন করে একটি করে অক্ষর লিখত। যে পরের শেষ অক্ষর লিখত সে পয়েন্ট পেত। যেমন, একজন লিখল o, অন্যজন তার পাশে যদি N লিখত, তাহলে সে দু পয়েন্ট পেত।
ঘর মিলানো। ডট ডট দিয়ে সমদূরত্বে কিছু লাইন আকা হত। তারপর এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দুকে একবার করে রেখা টেনে সংযুক্ত করা হত। এভাবে শেষ পর্যন্ত যে যতগুলো ঘর বেশী পূরণ করতে পারত সে জয়ী হত।
কাটাকুটি : এই খেলাটি ছিল ৯ ঘরের একটি খেলা। একই সারিতে যে তিনটি X বা O বসাতে পারত সে জয়ী হত।
.............................................................
ব্লগারদের সংযুক্তি

৩০: রুমাল চোর : এটি অনেক জনপ্রিয় একটি খেলা ছিল। রুমাল চোর নাম হলেও আমরা সাধারণত স্যান্ডেল দিয়েই খেলতাম। এখানে সবাই গোল হয়ে বসত। যে চোর হত, সে সবার পিছনে ঘুরে ঘুরে যে কোন একজনের পিছনে স্যান্ডেলটি রেখে দিত। আর একবার ঘুরে আসার আগেই স্যান্ডেল যদি যার পিছনে রাখা হয়েছে, সে পেয়ে যেত তবে সে উঠে স্যান্ডেল নিয়ে ঘুরা শুরু করত। আর না পারলে চোর এসে তার পিঠে দুম দুম কিল বসিয়ে দিত এবং তাকে মুরগী বানিয়ে সবার মাঝখানে বসিয়ে রাখা হত। ( জু ন-চতুর্মাত্রিক)

৩১: কাং : গোল একটা চাকতি থাকতো। অনেক গুলা বক্স থাকতো। চাকতি দিয়ে বক্স গুলাকে বিভিন্ন কায়দায় ফেলতে হতো। (ইমন কুমার দে-সামহোয়্যার ইন)

৩২: চড়ুইভাতি : এই খেলাটি খেলেননি এমন কেউ হয়তো নেই। এখনো বাচ্চারা এই খেলাটি খেলে। নিজেরাই নিজেদের সংসার পেতে, রান্না বান্না করে। কি যে মজার এক খেলা। (ইমন কুমার দে-সামহোয়্যার ইন)

৩১ : দড়ি টানাটানি : এখানে বড় একটি দড়ি নিয়ে দুদলে ভাগ হয়ে দড়ির দু-প্রান্ত ধরে টানা হত। শক্তি পরীক্ষার মত। যারা দড়ি নিজেদের দিকে টেনে নিয়ে আসতে পারত, তারাই জয়ী হত। ( ফাইরুজ-সামহোয়্যার ইন)

৩৩: বৌ-চি : এই খেলায় বৌ তার দলের জন্য নির্দিষ্ট ঘর থেকে দূরে আরেকটা ঘরে অবস্থান করত। আর প্রতিপক্ষের দলের খেলোয়াড়দের কাজ ছিল বৌ যাতে তার ঘর থেকে দৌড়ে তার দলের ঘরে পৌছতে না পারে। আর বৌ-এর দলের একজন করে সদস্য দম নিয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ছুয়ে দেয়ার চেষ্টা করত। ছুয়ে দিলে সে বাদ। তাই ছোয়া বাঁচাতে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রাও এদিক সেদিক দৌড়ায় আর তার ফাঁকে বৌ চেষ্টা করে এক দৌড়ে তার দলের নির্দিষ্ট জায়গায় চলে আসতে। বৌ প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের কোন রকম ছোঁয়া ছাড়া নির্দিষ্ট স্থানে চলে আসতে পারলে বৌ-এর দল জয়ী আর যদি আসার সময় প্রতিপক্ষের কোন খেলোয়াড় ছুঁয়ে দেয় তবে প্রতিপক্ষ জয়ী। (ইনক্রেডিবল- সামহোয়্যার ইন)

৩৪: নাম না জানা : আরেকটি খেলা খেলতাম। কিভাবে খেলতাম তেমন মনে নাই। তবে ছড়াটা মনে আছে- টগর মগর ঘী মলি, ঘী দে (দিয়ে) বেগুন চচ্চড়ি ....... , তারপর আরেকটি খেলা খেলতাম তাতে বলতাম এলপাত বেলপাত উঠাও তোমার সোনার হাত, আরেকটি খেলা ছিলো যেটাতে বলতাম থাল মাজি থাল মাজি উপুড় করো ......। আর ছোট বেলার সবচেয়ে মজার যে খেলাটি ছোটদের সাথে খেলা হয় সেটা হলো ছোট্ট বাবুটার হাত টেনে তালু পেতে বলা হতো ভাত দিলাম পোলাও দিলাম গোস্ত দিলাম ...এবার একটি বিড়াল আসছে গুড়ম্যও গুড় ম্যও গুড় ম্যও বলতে বলতে দু আঙুল হাতের উপরে হাটিয়ে নিয়ে তার বগলে সুড়সুড়ি দেয়া (মাধুকরী - আমার ব্লগ)

৩৫: রেস-ক্যু: এই খেলায় দুটি দল থাকে। এখানে পালাক্রমে এক দল আরেক দলের সবাইকে ধরে একটি নিদৃষ্ট ঘরের ভিতর (দাগ দিয়ে মাঠে একটি ঘর বানানো হত) আটকিয়ে রাখতে হবে। বিপক্ষ দলের কাওকে যখন ধরা হত, তখন ধরে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গণনা করা হলেই কেবল বিপক্ষ দলের কাউকে ঘরের ভিতর আটকিয়ে রাখা যেত। ঘরের আটকা অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য, একই পক্ষের কেও যদি দৌড়ে এসে ঘরের ভিতর কোনো বন্দিকে ছুয়ে দিতে পারত তাহলে মিলত মুক্তি! এভাবে সবাইকে আটক না করা পর্যন্ত খেলাটি চলতে থাকত! (প্রধান-মন্ত্রী : আমার ব্লগ)

৩৬: ফুটবল (খাতায়) : খাতা তে পেন্সিল দিয়ে গোলপোস্ট দুই ধারে একে ফুটবল খেলা ,পেন্সিল এর উপর টা ধরে এক চান্স এ খোঁচা মেরে যতটা যাবে ,এর পর প্রতিপক্ষর পালা এই ভাবে যে আগে গোল করবে , সে জয়ী। (গালু ভাই - আমার ব্লগ)


খেলায় চোর নির্বাচন কিংবা টস করার ব্যাপারটিও অনেক মজার ছিল। কেউ একজন আঙ্গুল ফুটাত। ফুটানো আঙ্গুলটি যে ধরত, সেই চোর হত। অথবা তিনজন তিনজন করে হাতের পাতা একসাথে করেও এটি করা হত। লক্ষণীয় ব্যাপার হল এই , অনেক খেলাতেই চোর একটি কমন বিষয় ছিল। যদিও তার কাজ ছিল পুলিশের অর্থাৎ খোজাখুজি কিংবা কাউকে ধরা, কিন্তু তার নাম চোর হত কেন এটার ব্যাখ্যা আমার জানা নেই।

উপরের খেলাগুলো ছাড়াও আরও অনেক খেলা ছিল। যেমন, গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্ধা, মার্বেল, দড়ি লাফ, ছক্কা/লুডু, পুতুল খেলা, পাথর চুরি, মাংস চুরি ,এক্কা দোক্কা, হাডুডু। এছাড়া গতানুগতিক খেলার কথা বাদই দিলাম। বাবার চাকুরীর সুবাদে অনেক জায়গায় থাকা হয়েছে, সেই সুবাদে অনেক মানুষের সাথে মিশেছি, অনেক খেলাধুলা সম্পর্কে জেনেছি, খেলেছি। এখনকার ছেলে-পুলেরা হয়তো এসব খেলার কথা শুনে হাসবে।

>> অনেক খেলার নাম হয়তো জায়গাভেদে ভিন্ন হতে পারে। সেগুলো উল্লেখ করে দিন।আমি এই পোষ্টে যোক করে দিব।

 


 

গ্রামীণ-দেশজ খেলা যা আর খেলা হয়না তেমন—পরিচয় করিয়ে দিই আপনাদের সঙ্গে পর্ব: ০১

মানুষ সেই প্রাচীনকাল হতে তাদের মানসিক বিনোদন ও আনন্দের জন্য যা শুরু করেছিল তা খেলা। আর তার ভিন্নতা বা জনপ্রিয়তা দেশ ও মানুষ ভেদে বিভিন্ন রকম। একেক দেশে একেক খেলা মানুষ নিজেদের আনন্দের জন্য নিজেরা আবিষ্কার করেছে। আমাদের দেশ তথা বাঙালি সমাজে এমন অনেক খেলা প্রচলিত আছে বা হারিয়ে গেছে বা যাচ্ছে নতুন নতুন খেলার ভিড়ে। এই সব খেলা আগে গ্রামীণ সমাজে যেমন খেলা হত তেমনি শহুরে পরিবেশেও খেলা হত হরদম।
দেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ এমন খেলাধুলা নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত ঘটানো ও মানুষের মাঝে পারষ্পারিক ভ্রাতৃত্ব-বোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে সারাদেশের বিলুপ্তপ্রায় নানা রকমের খেলার আয়োজন হয়ে থাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে। দেখুন দেখি কে কোন খেলাটা অন্তত একবার হলেও খেলেছেন।

১।হা-ডু-ডু (কাবাডি) খেলা:
প্রতিটি দেশের একটি জাতীয় খেলা থাকে। ইংরেজদের জাতীয় খেলা ক্রিকেট, আমেরিকানদের জাতীয় খেলা বেস বল। আমাদের জাতীয় খেলা হাডুডু বা কাবাডি। কিন্তু কালক্রমে এই খেলার কদর

হারিয়ে যেতে বসেছে। দশ বছর আগেও স্কুল ভিত্তিক আন্তঃজেলা বা থানা কাবাডি প্রতিযোগিতার আয়োজন চোখে পড়ত। বর্তমানে সেটাও চোখে পরে না। অনেকেই হাডুডু খেলার নিয়ম পর্যন্ত জানে না! । চলুন জেনে নিই এই খেলা সম্পর্কে। খেলার নাম :হাডুডু বা কাবাডির উৎপত্তিস্থল ফরিদপুর, আবার কেউ কেউ বলেন বরিশাল। তবে বাংলাদেশের সর্বত্র এই খেলার প্রচলন আছে। মাঠের সাইজ :৪২ ফুট লম্বা ও ২৭ ফুট চওড়া। মাঠকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। প্রতিটি ভাগকে কোট বলা হয়। মোট সময় :৪৫ মিনিট (২০ মিনিট + ৫মিনিট + ২০ মিনিট) মাঝের ৫ মিনিট বিরতি। হাডুডু খেলার শুরুতে খেলোয়াড়দের দুটি দলে ভাগ করে নিতে হয়। প্রতিটি দল তাদের দলনেতা নির্বাচন করে। নেতার অধীনে দু'দলে সমান সংখ্যক খেলোয়াড় থাকে। সাধারণত খেলোয়াড় থাকে ১২ জন। তবে প্রতিবার সাত জনের দল

নিয়ে খেলতে হয়। দু'পক্ষের দু'দল মুখোমুখি অর্ধ বৃত্তাকারে দাঁড়ায়। খেলা শুরু হলে একপক্ষ দম রেখে হাডুডু বা কাবাডি বলতে বলতে ডাক দিতে থাকে এবং মধ্যরেখা পার হয়ে বিপক্ষের কাউকে ছুঁয়ে দম থাকা অবস্থায় দ্রুত পালিয়ে আসতে চেষ্টা করে। যদি কাউকে ছুঁয়ে আসতে পারে তবে সে ‘মরা' বলে গণ্য হয়। আবার আক্রমণকারী যদি বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ধরা পড়ে তবে সেও মরা বলে গণ্য হয়। একজন মরা আর খেলতে পারবে না, তাকে কোটের বাহিরে অপেক্ষা করতে হবে। যদি মরা দলের কেউ প্রতিপক্ষের কাউকে ছুঁয়ে আসতে পারে তবে মরা পুনরায় বেঁচে যাবে। আক্রমণে পরাজিত

হওয়াকে মরা এবং বিজয়ী হওয়াকে বাঁচা বলে। এই খেলার মজার একটা নিয়ম আছে। সেটা হল ৮০ কেজি বেশি ওজনের কাউকে এই খেলায় নেওয়া হয় না। এই খেলা পরিচালনা ও বিচারকার্য করে থাকেন একজন রেফারি, দুইজন আম্পায়ার, একজন স্কোরার।


২।লাঠি খেলা

লাঠি খেলা একটি ঐতিহ্যগত মার্শাল আর্ট যেটি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কিছু জায়গায় চর্চা করা হয়।লাঠি খেলা' অনুশীলন কারীকে 'লাঠিয়াল' বলা হয়।লাঠি খেলা লাঠি দিয়ে আত্মরক্ষা শেখায়। ব্রিটিশ শাসনামলে অবিভক্ত বাংলার জমিদাররা (পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বঙ্গ) নিরাপত্তার জন্য লাঠিয়ালদের নিযুক্ত করত। চঞ্চলে জমি দখলের জন্য মানুষ এখনও লাঠি দিয়ে মারামারি করে। মহরম ও পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মানুষ্ঠানে এই খেলাটি তাদের পরাক্রম ও সাহস প্রদর্শনের জন্য খেলা হয়ে থাকে। এই খেলার জন্য ব্যবহৃত লাঠি সাড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট লম্বা, এবং প্রায়ই তৈলাক্ত হয়। অত্যাশ্চর্য কৌশলের সঙ্গে প্রত্যেক খেলোয়াড় তাদের নিজ নিজ লাঠি দিয়ে রণকৌশল প্রদর্শন করে। শুধুমাত্র বলিষ্ঠ যুবকেরাই এই খেলায় অংশ নিতে পারে।কিন্তু বর্তমানে শিশু থেকে শুরু করে যুবক, বৃদ্ধ সব বয়সের পুরুষেরাই লাঠিখেলায় অংশ নিয়ে থাকেন। উত্তরবঙ্গে, ঈদের সময়ে চাঁদি নামক একটি অনুরূপ খেলা খেলা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ অংশে পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মানুষ্ঠানের সময় "লাঠি খেলা" এর প্রদর্শনী এখনও আছে।

লাঠি খেলা এদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ভ্রাম্যমাণ পরিবেশনা শিল্প। গ্রামের সাধারণ মানুষেরা তাদের নৈমিত্তিক জীবনের উৎসব-বাংলা বর্ষ বরণ, বিবাহ, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি অনুষ্ঠান উপলক্ষে লাঠি খেলার আয়োজন করে থাকেন। এক্ষেত্রে সাধারণত কোনও লাঠিয়াল দলকে ভাড়া করে আনা হয়। লাঠিয়াল বাহিনী সড়কি খেলা, ফড়ে খেলা, ডাকাত খেলা, বানুটি খেলা, বাওই জাঁক (গ্রুপ যুদ্ধ), নরি বারী (লাঠি দিয়ে উপহাস যুদ্ধ) খেলা এবং দাও খেলা (ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপহাস যুদ্ধ) খেলা দেখায়। এর মধ্যে ডাকাত খেলার উপস্থাপনা ঈদে জনপ্রিয় খেলা হিসেবে প্রসিদ্ধ। লাঠিখেলার আসরে লাঠির পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র হিসেবে ঢোলক, কর্নেট, ঝুমঝুমি, কাড়া ইত্যাদি ব্যবহৃত হয় এবং সঙ্গীতের সাথে চুড়ি নৃত্য দেখানো হয়।

৩।গোল্লাছুট, চি বুড়ি (গোশত-গোশত গোল্লাছুট): গ্রামবাংলার কিশোর-কিশোরীদের এই খেলার সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। আমার মনে হয় সারা বাংলার সব গ্রামের কিশোর-কিশোরীরাই এ খেলার সঙ্গে পরিচিত এবং এটি তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা। গ্রামের বিস্তৃত স্কুল মাঠ, খোলা জায়গা, নদীর পাড়ে সাধারণত কিশোর-কিশোরীরা গোল্লাছুট খেলায় মেতে উঠে। এ খেলার জন্য ছোটাছুটি ও দৌড়াদৌড়ির জন্য বেশ জায়গা লাগে। গোল্লাছুট খেলায় দু’টি দল থাকে। বৃত্ত তৈরি করে ঘুরতে হয় বলে একে “গোল্লা” এবং আঞ্চলিক ভাষায় ছুট হলও দৌড়ানো। এভাবেই খেলার নাম হয়েছে গোল্লাছুট গোল্লাছুট খেলায় দুটি দল থাকে। মাটিতে এক জায়গায় গর্ত করে একটি লাঠি পুতে তাকে কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়, এই লাঠিকে কেন্দ্র করে বৃত্ত তৈরি করে ২৫/৩০ ফুট দূরের কোন একটি বস্তুকে (বৃত্তের বাইরে আর একটি কেন্দ্র) স্পর্শ করতে হয়।

যেমন : খেলার শুরুতে প্রথম দুজন দলপতি নির্ধারণ করা হয়। দলপতিদের বলা হয় “গোদা”। তার পর খেলোয়াড় বাছায়। কোনও জুটি একটু দূরে গিয়ে তাদের নাম ঠিক করল চাঁদ ও তারা। দলনেতাদের সামনে গিয়ে তারা বলে_ আমরা চাঁদ ও তারা। তোমরা কে কাকে চাও। একজন চাঁদ চাইলে অন্যজনের ভাগে পড়ে তারা। ভাগ হয়ে দুজন দুদলে চলে যায়। এভাবেই দুই দলে সবাই ভাগ হয়।দুদলেই সমান সংখ্যক খেলোয়াড় থাকে (৫ অথবা ৭ জন)।

এরপর খেলা শুরু হয়। খেলা শুরুর আগে একটা ছোট্ট গর্তকে ঘিরে খেলা চলে। এই গর্তে একটি কাঠি বা কঞ্চি পুঁতে সেটির নাম দেয়া হয় গোল্লা। আর ৬০/৭০ গজ দূরে কোন গাছ বা খড়ের গাদাকে সীমানা ধরা হয়। ওই গোল্লা থেকে দৌড়ে সীমানাকে ছোঁয়াই খেলার প্রধান লক্ষ্য। গোল্লা থেকে ছুটে গিয়ে সীমানা ছোঁয়ার কারণেই এই খেলার নাম হয়েছে গোল্লাছুট।

এই খেলার দলনেতা গোল্লাকে ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর গোল্লার হাত ধরে দাঁড়ায় এক সদস্য। এরপর একে অপরের হাত ধরে লম্ব হয়ে ঘুরতে থাকে। আর অন্য পক্ষের খেলোয়াড়রা তাদের ঘিরে দূরে দাড়িয়ে থাকে। দলনেতাকে ধরে ঘুরতে থাকা খেলোয়াড়রা ফাঁক বুঝে দৌড় দিয়ে সীমানাকে ছুঁতে চেষ্টা করে। আর অপরপক্ষ ছুটে চলে দৌড় দেয়া খেলোয়াড়কে সীমানা ছোঁয়ার আগে ছুঁয়ে দিতে। যদি ছুঁয়ে দিতে পারে তাহলে ওই খেলোয়াড় খেলা থেকে বাদ পড়ে।

অন্যদিকে সীমানা ছুঁতে পারলে জয়ের দিকে একধাপ এগিয়ে যায় তারা। এভাবে চলতে চলতে গোল্লাকে ঘিরে ঘুরতে থাকা দলের সব সদস্য সীমানা ছুঁয়ে ফেললে তারা সকলে গোল্লায় এসে জোড় লাফ দিয়ে দিয়ে সীমানার দিকে যেতে থাকে। সবাই জোড় লাফে ঠিকমতো সীমানা ছুঁতে পারলে ওই দান (পর্ব) তারা জিতে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ যদি কোন খেলোয়াড়কেই সীমানা ছুঁতে না দেয় তাহলে তারা দান পায়। পরে প্রতিপক্ষ দলনেতা গোল্লাকে ছুঁয়ে দাঁড়ায় আর অন্য সদস্যরা তাকে ছুঁয়ে আগের মতো ঘুরতে থাকে এবং চেষ্টায় থাকে কখন ছুটে গিয়ে সীমানা ছুবে। এভাবেই ঘুরে ফিরে খেলা চলতে থাকে।

৪। বউচি খেলা: বউচি বাংলাদেশের সব অঞ্চলের শিশুদের প্রিয় খেলা। বউচি খেলায় দুটি দলের প্রয়োজন হয়। প্রতি দলে ৮ থেকে ১০ জন করে খেলোয়াড় হলে খেলা জমে। মাঠ অথবা বাড়ির উঠোন_যেখানে খুশি সেখানে খেলা যায়। খেলার আগে ১৫-২০ ফুট দূরত্বে মাটিতে দাগ কেটে দুটি ঘর তৈরি করতে হয়। দুই দলে যারা প্রথম খেলার সুযোগ পায় তাদের মধ্যে থেকে একজনকে বউ বা বুড়ি নির্বাচন করা হয়। দুটি ঘরের মধ্যে একটি ঘর হবে বড়, যেখানে এক পক্ষের সব খেলোয়াড় থাকবে। আর ছোট ঘরে দাঁড়াবে বউ। ছোট ঘরটিকে বউঘর বা বুড়িঘর বলে। বউয়ের বিচক্ষণতার ওপর

খেলার হারজিত নির্ভর করে। খেলার মূল পর্বে বউঘর থেকে বউকে ছুটে আসতে হবে বড় ঘরটিতে। বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা সব সময় পাহারায় থাকে বউ যেন ঘর থেকে বের হতে না পারে। বউ বাইরে এলে বিপক্ষ দলের কেউ তাকে ছুঁয়ে দিলে ওই পক্ষের খেলা শেষ হয়ে যায়। এরপর বিপক্ষ দল খেলার সুযোগ পায়। এদিকে বড় ঘরটিতে যারা থাকে তারা দম নিয়ে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের তাড়া করে। দম নিয়ে তাড়া করলে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা দিগ্বিদিক ছুটে পালায়। আবার খেয়াল রাখে বউ যেন যেতে না পারে। দম নিয়ে যাওয়া খেলোয়াড় কাউকে ছুঁয়ে দিলেই বিপক্ষ দলের সে খেলোয়াড় মারা পড়ে। মরা খেলোয়াড় চলতে থাকা খেলায় অংশ নিতে পারে না। এভাবে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় মেরে বউকে বড় ঘরে ফিরে আসতে সুযোগ করে দেওয়া হয়। বউ যদি বিনা ছোঁয়ায় বড় ঘরে চলে আসতে পারে তাহলে এক পয়েন্ট। খেলা আবার তারাই শুরু করবে। আর বউ মারা পড়লে অন্য দল খেলার সুযোগ পাবে। যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ চালানো যায় খেলা।


৫। মোরগ লড়াই (বাংলাদেশের গ্রামীণ খেলা) বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশে মোরগ লড়াই শিরোনামে শিশুদের মধ্যে হাঁটু লড়াইয়ের আয়োজন হয়ে থাকে। এ খেলায় এক পা ভাঁজ করে হাঁটু দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হয়।মোরগ লড়াই বাংলাদেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আয়োজন করা হয়ে থাকে।এটি সাধারণত ছেলেদের খেলা।গ্রামাঞ্চলের ছেলেদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা।

নিয়মকানুন: মোরগ লড়াই খেলায় একদল ছেলে গোল হয়ে একপায়ে দাড়িয়ে থাকে। দুই হাত দিয়ে অপর পা পিছনে ভাজ করে রাখতে হয়। রেফারি যখন বাঁশিতে ফুঁ দেন তখনই খেলোয়াড়রা একে অপরকে ভাজ করা পা দিয়ে মারতে থাকে। কেউ পড়ে গেলে সে বাতিল বলে গণ্য হয়। এভাবে শেষ পর্যন্ত তিনজন থাকে। তাদের মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় নির্ধারণ করা

৬।মার্বেল খেলা: বাংলাদেশের গ্রামীণ কিশোর ছেলেদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় খেলা মার্বেল। কোন কোন অঞ্চলে মার্বেল খেলাকে বিঘত খেলাও বলে। এটা অভিভাবকদের কাছে এক ধরণের নিষিদ্ধ খেলা। অভিভাবকদের ধারণা এটা বস্তির পোলাপানের খেলা, কোন ভদ্র শিক্ষিত ঘরের ছেলে এটা খেলতে পারেনা। সম্ভবত অভিভাবকদের নিষেধাজ্ঞাই এই খেলার প্রতি কিশোরদের অদম্য আকর্ষণ সৃষ্টি করে। এই খেলার নিষ্পত্তি হয় অন্যের মার্বেল খেলে জিতে নিজের করে নেবার মাধ্যমে।মার্বেল খেলার জন্য কমপক্ষে দুইজন খেলোয়াড় দরকার হয়। তিন, চার, পাঁচ, বা সাতজন মিলেও খেলা যায়। পরিষ্কার সমতল ভূমি এই খেলার জন্য উপযোগী।


মার্বেল খেলার অঞ্চল ভেদে নানা ভার্শন প্রচলিত আছে।তবে সারা দেশে জনপ্রিয় একটা হচ্ছে 'ডিপ' খেলা। 'ডিপ' খেলায় দুই থেকে শুরু করে ৮/১০ জন খেলতে পারে। একটা ছোট গর্ত খোঁড়া হতো যার নাম ডিপ। সবাই একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব হতে মার্বেল ছুঁড়তো। যার মার্বেল ডিপের সবচেয়ে কাছে পড়তো সে সবার আগে খেলার সুযোগ পেতো। প্রথমে ডিপ লক্ষ্য করে আঙ্গুলে মার্বেল ছুঁড়ো, ডিপে ফেলো, তারপর সুবিধা মত প্রতিপক্ষের যেকোন মার্বেল লক্ষ্য করে মার্বেল ছুঁড়ো। লাগলে সেই মার্বেল তোমার। অবশ্য প্রতিপক্ষ অন্য একটি মার্বেলও ইচ্ছা করলে দিতে পারে।


এই ডিপ পদ্ধতির আর একটা খেলা আছে এটি পয়েন্ট ভিত্তিক খেলা। সবাই একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব হতে মার্বেল ছুঁড়তো। যার মার্বেল ডিপের সবচেয়ে কাছে পড়তো সে সবার আগে খেলার সুযোগ পেতো। প্রথমে ডিপ লক্ষ্য করে আঙ্গুলে মার্বেল ছুঁড়ো, ডিপে ফেলো , তাহলে এক পয়েন্ট। তারপর সুবিধা মত প্রতিপক্ষের যেকোন মার্বেল লক্ষ্য করে মার্বেল ছুঁড়ো। লাগলে পয়েন্ট ২। এভাবে ২০ পয়েন্ট করতে পারলে সে বিজয়ী। সবার শেষে যে থাকে সে চোর। তাকে এবার চোর দিতে হবে বা আমরা বলি গাই খাটতে হবে। চোর এবার প্রথম লাইন হতে ডিপ লক্ষ করে মার্বেল ছুড়বে। যদি এক চান্সে ডিপে পড়ে ভাল তা না হলে একে একে সকলে তার মার্বেল লক্ষ করে মার্বেল ছুড়বে তাকে ডিপ হটে দূরে সরিয়ে দিতে।প্রথম জন চোরের মার্বেলে লাগাতে পারলে বলা হয়


১ এ গাই( গরুর স্ত্রী লিঙ্গ) ... ,


পরের জনের লাগলে ২ এ বিড়াল,


৩ এ ত্যাঁদড় ,


৪ এ চোর,


৫ এ পেঁচা ,


৬ এ ছোঁচা ,................................................ ১৯ এ হিয়া,


২০ এ বিয়া,


২১ এ বাসর রাত,


২২ এ বাচ্চার বাপ ।

এমন করে চলতে থাকে যতক্ষণ চোর ডিপে মার্বেল না ফেলতে পারে। অনেক সময় চোরকে মাফ করে দেওয়া হয়। আবার খেলা শুরু হয় নতুন করে। আবার হয়তো নতুন কেও চোর।


এর পর আসা যাক দান খেলা বা বাদ খেলাতে । এ জন্য প্রথমে দুইটি একটি রেখা টানতে হয়। প্রথম রেখা ( শুরুর রেখা বা দান রেখা)থেকে চার-পাঁচ হাত দূরে দ্বিতীয় রেখার(আঞ্চলিক ভাষায় রেখাটিকে ‘জল্লা’/কোথাও ‘জই’ নামে পরিচিত) আশে পাশে একটি গর্ত(গর্তটিকে ‘কেপ’ বলে) করতে হয় যেন একটি মার্বেল সেই গর্তে বসতে পারে। জল্লার বাইরে হতে প্রথম রেখা ( শুরুর রেখা বা দান রেখা)থেকে পা রেখে প্রত্যেকে একটি করে মার্বেল কেপ এ ফেলার চেষ্টা করে। যার মার্বেল কেপ এ পড়ে বা সবচেয়ে কাছে যায় সে প্রথম দান পায়। প্রথম যে দান পায় তার হাতে ২/৩/৪টি করে মার্বেল জমা দেয়। দুই এর দান হলে ২ টি , তিন এর দান হলে ৩ টি।

সে মার্বেলগুলো প্রথম রেখা ( শুরুর রেখা বা দান রেখা)থেকে চার-পাঁচ হাত দূরে দ্বিতীয় রেখার(আঞ্চলিক ভাষায় রেখাটিকে ‘জল্লা’/কোথাও ‘জই’ নামে পরিচিত) আশে পাশে ওই গর্তের(গর্তটিকে ‘কেপ’ বলে) আশপাশে আলতো করে ছড়িয়ে দেয়। এরপর অন্য খেলোয়াড়রা একটা নির্দিষ্ট মার্বেলকে বলে ‘বাদ’। অর্থাৎ ওই মার্বেল ছাড়া বাকি যে কোন একটি মার্বেলকে অন্য একটি মার্বেল ছেড়ে দিয়ে স্পর্শ করতে হবে। যদি এমনটা পারে তাহলে ওই দান সে জিতে যায়। আর না পারলে পরবর্তী জন একইভাবে খেলার সুযোগ পায়।


মার্বেল খেলায় দুটি নাম খুব প্রচলিত ছিলো - ডাগ্গি আর চুঁই। সবচেয়ে গোলাকার এবং সুবিধাজনক মার্বেল, যেটা দিয়ে খেলা সবচেয়ে সহজ তাকে বলা হতো ডাগ্গি। প্রতিটা খেলোয়াড় তার ডাগ্গি কোন ভাবেই হাতছাড়া করতো না, কারণ এটা দিয়েই সে খেলে। আর সবচেয়ে ছোট মার্বেলকে বলা হতো চুঁই। সুবিধা মত এ দুই ছুড়ে খেলা হয়।

তবে ‘বাদ’ দেয়া মার্বেল কিংবা অন্য একাধিক মার্বেলকে ছুড়ে দেয়া মার্বেল স্পর্শ করলে ওই খেলোয়াড়কে ফাইন দিতে হয়। এবং দান জেতার জন্য পরবর্তী খেলোয়াড় ফাইন হওয়া মার্বেলসহ সেগুলো ছড়িয়ে দিয়ে খেলতে থাকে।

যে কেউ দান জিতলে আবার পুনরায় খেলা শুরু হয়। এভাবেই চলতে থাকে যতক্ষণ না প্রতিপক্ষ আত্মসমর্পণ করে কিংবা তার কাছের মার্বেল শেষ না হয়ে যায়।


এ ছাড়া আরও দুটি খেলা প্রচলিত একটা বলে বাটা খেলা আর একটা হল ঘর খেলা। বাটা খেলা দান খেলার মতই তবে এটি খেলা হয় দেয়ালের পিছে ছোট ঘর করে।পদ্ধতি টা একটু আলাদা। আর ঘর খেলা হয় চার কোন ষোল গুটির মত ছক ঘর করে মার্বেল ঘরের ছকে ছকে বসানো থাকে। নির্দিষ্ট দূর হটে ঘর লক্ষ করে মার্বেল ছোড়া হয় বা ঘরের আশে পাশে যাবার চেষ্টা করা হয়। আর পর সবচেয়ে কাছে যে সে প্রথমে মারার চান্স পায়। সে একে একে তার ডাগ্গি দিয়ে ঘরের মার্বেল কে লক্ষ করে মারে , মার্বেল ঘর হতে অন্য মার্বেলকে স্পর্শ না করে বাইরে এলে সে মার্বেল তার। এভাবে একে একে মার্বেল তুলে নিতে থাকে বা পারে না বা ডন করে। ডন হলে অন্য জন সুযোগ পায়। একটা মার্বেল তুলে নিতে ঘরের অন্য মার্বেল স্পর্শ করলে ডন হয়। এ জন্য ফাইন একটা মার্বেল ঘরে বসাতে হয় অথবা এক দান বসে থাকতে হয়। অন্যরা প্রথম হতে খেলা শুরু করে।


 

5514465570f72

ছোট্ট মণির সংসার


পুরো নাম আয়েশা মণি সিদ্দিকা। আম্মু আদর করে ডাকে আয়েশা মণি। বয়স মাত্র তিন। আয়েশা মণির আছে ছোট্ট একটি সংসার। আছে ছোট এক বাবু। আয়েশার ছোট বাবুটি ছেলে না মেয়ে, জানতে পারিনি। তবে এতোটুকু জেনেছি- বাবুকে আয়েশা খুব আদর করে, ভালবাসে। মাঝে মাঝে বাবুকে গোসল করায়, হাত-পায়ে তেল দিয়ে দেয়, মাথা আচড়িয়ে দেয়। আবার কখনো কখনো চুমু খেয়ে বলে- আমার লক্ষীসোনা, কাদে না, ও-ও কাদে না।

সারাদিন আয়েশা নানা রকম খেলায় ব্যস্ত। কখনো লুকোচুরি, কখনো দৌঁড়া-দৌঁড়ি, আবার কখনো বিয়ের বাড়ির মতো মস্ত ঝামেলার মাঝে। পুতুল বিয়ে দেওয়া আর রান্না-বান্না করা তার একটি নিয়মিত কাজ। পাশের বাড়ির ছেলে আসিফ। বয়সে আয়েশার চেয়ে ছোট। আয়েশার খেলার সবচেয়ে ভালো সঙ্গী সে। বাজার থেকে মিছে মিছে- চাল, ডাল, মাছ ও তরিতরকারি আনা আসিফের কাজ।

আম্মুর রান্না ঘরের পাশেই লাউয়ের মাচা। মাচার নিচে চুপিসারে গড়ে তুলেছে আয়েশা তার সংসার। আম্মু যখন যখন রান্না করে, আয়েশাও তার সাথে পাল্লা দিয়ে রান্না করে। পতুলের শ্বশুর বাড়ি থেকে মেহমান আসলে কখনো কখনো বানাতে হয় নানা রকম পিঠা। আয়েশা যখন পিঠা বানায়, তখন একটু দূরেই দাঁড়িয়ে থাকে কুকুর, বিড়াল আর বাড়ির সেই লাল মোরগটি। রান্নার ফাঁকে ফাঁকে যখন আয়েশা তার দরকারি জিনিসপত্র আনতে যায়, তখন এসব প্রাণিরা কেন যেন সব নষ্ট করে ফেলে। আসিফ-কে খেলায় নেওয়া না হলে, আসিফ-ই হয়ে উঠে চরম শত্রু। আয়েশা মনে মনে ভাবে- তার মায়ের সাথে তো কারো শত্রুতা নেই। কেউ তো তার মায়ের রান্নায় বাধা দেয় না। অথচ তার সাথে সবার এতো শত্রুতা কেন? এসবে প্রচুর মন খারাপ হয় আয়েশার।

যাইহোক এতোসব সামলে নিয়েই রান্নার কাজ শেষ করতে হয় তাকে। মাঝে মাঝে ছোট বাবুটি কান্না জুড়ে দেয়। তাকে দুধ খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো এবং নানান খেলনা দিয়ে ব্যস্ত রেখে বাকী কাজ করতে হয় তাকে।

রাতের বেলায়ও অনেক সময় রান্না করতে হয়। তখনই বাধে আরেক আপত্তি। আম্মু মাচার নিচে রান্না করতে গেলে বকে। বলে- মশায় কামড়াবে, অন্ধকারে রান্না করার দরকার নাই। অথচ সে বুঝে না, রান্না না করলে তার বাবু না খেয়ে থাকবে। রাতে ঘুমাবে না- শুধু কান্না কাটি করবে। তাই কষ্ট হলেও রান্না করতে হয়। আম্মুও মাঝে মাঝে সব খেলনা এলোমেলো করে ফেলে। ফেলে দেয় রান্না করা ভাত, মাছসহ তরিতরকারি। রাগে অভিমানে আয়েশা অনেক সময় চুপ করে বসে থাকে। অনেক সময় ক্ষীণ প্রতিবাদ সরূপ কান্না-কাটি করে। আবার অনেক সময় এর প্রভাব পড়ে তার বাবুর উপর। কোন কারণ ছাড়াই মারতে থাকে বাবুকে।

এমন মুর্হূতে আমি প্রায়ই দেখেছি- আয়েশা তার বাবুকে কান্না-কাটি’র জন্য বকে আর বলে- এতো জ্বালা যন্ত্রণা আর ভাল্লাগে না।



চোখের সামনে বিশাল এক স্মৃতি ভাসছে, সত্যিই খুব অসাধারণ ছিল মুহুর্তটুকু ! যাইহোক, উপরে এই কাবাডি ছাড়াও সবগুলোই মোটামুটি খেলা হয়েছে ! একেবারে যখন ছোট ছিলাম তখন খেলতাম এই কানামাছি ! এইটা খুবই ছোটবেলার কথা তখনও আমাদের বাসা হয়নি আমরা মামার বাসায় জয়েন্ট ফ্যামিলি হিসেবে ছিলাম কাজেই, আমার ২ মামাত বোন, কাজের লোকজন আর আমার বড় ভাই মিলে এইটা খেলতাম ! এরপর যখন নিজেদের বাসা হয়ে গেল তখন খেলা হত লুকোচুরি অথবা চোর-পুলিশ তখন ও বেশ ছোট ! পুরো বাসার লাইট বন্ধ করে সবাই মিলে এইটা খেলতাম ,আর বাসাটা যেহেতু প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশিই বড় ছিল কাজেই আরো বেশি মজা পেতাম ,সত্যিই অসাধারণ ছিল ! (সম্প্রতি, এই স্মৃতি স্মরণ করে আবার এইটা খেলেছিলাম আমার কাসিনরা মিলে ,সেই আগের মতই পুরো বাসা অন্ধকার করে !) এরপরে যখন স্কুল এ ভর্তি হলাম

তখন খেলা হত ক্রিকেট ,ব্যাডমিন্টন আর ফুটবল ! ক্রিকেট এ আমি যাদের সাথে খেলতাম তারা সবাই ছিল মোটামুটি আমার থেকে ৬-৭ বছরের সিনিয়র কিন্তু, সেই গ্রপের মধ্যে সবচেয়ে ভালো স্কোর ছিল আমার ! (এই নিয়ে বড় ভাইয়ের সাথে একবার চ্যালেঞ্জ লেগেছিলাম, বেচারাকে পুরো ডাক খাইয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম, যা ক্ষেপেছিল সেইদিন হাহাহা......!) আর ফুটবল খেলতাম যখন আমি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এর আবাসিক শাখায় ছিলাম তখন; খুব একটা ভালো না খেলতে পারলেও সেটাও খারাপ না ! আর অন্য কিছুর মধ্যে ভালো লাগে দাবা তবে, এখন আর খেলা হয়না ! তবে, এখন যা খেলি যেকোনো বুদ্ধি-দীপ্ত খেলা এই যেমন মাঝেমাঝে পিসিতে কোনো পাজেল ,হিডেন অবজেক্ট গেম পেলে তখনি বসে পরি I আর এখন নতুন একটা খেলাতো আমার লিস্টে যোগ হয়েছেই সেইটা হলো এই বেশতো প্রশ্ন-উত্তর বিভাগ ,সময় পেলেইত চলে আসি এইখানে উত্তর দিতে, এইটাকে তো আমার কাছে বেশ উত্কৃষ্ট মানের খেলা বলেই মনে হয় ,জানিনা অন্যরা এইটা কিভাবে দেখে !!



The Soda Pop